কারিগরী শিক্ষার এক অনন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। প্রকৃতি অকৃপণ হাতে এই দেশকে সাজিয়েছে নানা রূপে। ষড়ঋতুর এই দেশের তুলনা সে নিজেই। এ জন্যই কবি গেয়ে ওঠেন-
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না কো তুমি
সকল দেশের রাণি সে যে
আমার জন্মভূমি
সত্যিই আমরা ধন্য এমন একটি দেশে জন্মগ্রহণ করে, যেখানে মানুষ ক্লান্তি কিংবা একঘেয়েমিতে ভোগার কোন সুযোগই পায় না। ঘটা করেই বদলে যায় ঋতু। নানান রূপে সেজে উঠে প্রকৃতি আমাদের নিয়ে যায় অনির্বচনীয় এক আনন্দের জগতে।
প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এমন একটি দেশে জন্ম গ্রহণ করেও আজও আমরা একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতিতে পরিণত হতে পারি নি। প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি আমাদের রয়েছে এক বিশাল জনসম্পদ। এই জনসম্পদকে জনশক্তিতে পরিণত করতে না পারার কারণেই আজ আমাদের জাতীয় জীবনে এই দুর্দশা। গতানুগতিক সাধারণ শিক্ষা আমাদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি করছে নিঃসন্দেহে, কিন্তু তা জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছে। বরং সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত বিশাল জনগোষ্ঠী চাহিদা মাফিক কর্মক্ষেত্র না থাকায় এই জনগোষ্ঠী পর্যায়ক্রমে জাতীয় বোঝায় পরিণত হচ্ছে বিধায় তারা জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচকতার বিপরীত ধারায় অর্থাৎ নেতিবাচকতায় প্রভাব ফেলছে দারুণভাবে। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন হচ্ছে বাধাগ্রস্ত।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কারিগরী শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। আমাদের জাতীয় জীবনে হতাশাজনক এই অধ্যায়কে মুছে ফেলার প্রত্যয় নিয়েই ঢাকার অতি সন্নিকটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোল ঘেঁষে অবস্থিত সিদ্দিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড, হাজী রফিক সড়ক সংলগ্ন কয়েক একর জায়গা নিয়ে গড়ে উছেঠে পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মুন্নু জাহানের নামে গড়ে তোলা মুন্নু জাহান ফাউন্ডেশন এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বহুমুখী সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনের উদ্যোক্তা মরহুম আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম স্যারের নিয়মাবলী ও কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে।
এই মহৎ ব্যক্তিত্ব জাতি গঠনের জন্য একদল যোগ্য নাগরিক তৈরির মানসে মিতালী মার্কেট এর নিকটবর্তী সাহেব পাড়ার হাজি রফিক সড়কে ৭৬ শতাংশ ভূমিতে পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে গড়ে তোলেন। ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনক্রমে সিভিল, ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার এই তিনটি ডিপেস্নামা ট্রেড নিয়ে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। ১ম বছরই ৯৬ জন ছাত্র নিয়ে বেশ সফলভাবে শুরু হয় প্রতিষ্ঠানের অভিযাত্রা। প্রথম শিক্ষাবর্ষের পর্ব সমাপনী পরীক্ষায় ছাত্ররা সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন, প্রিন্সিপাল ও শিক্ষকমÛলীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল দ্বিতীয় শিক্ষাবর্ষেই পেতে শুরু করে ‘‘পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’’। বর্তমানে অত্র প্রতিষ্ঠানে তিনটি ব্যাচে প্রায় তিন শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সার্বিক পরিচালনায় নিয়োজিত আছেন ১১ সদস্য বিশিষ্ট মুন্নু জাহান ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত সফল সরকারি কর্মকর্তা আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম। ১৭৭৬০ বর্গফুটের অবকাঠামো নিয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে দ্বিতীয় ভবনের দোতলা পর্যন্ত (মূল পরিকল্পনা- ৬ তলা) ২১০০০ বর্গফুট অবকাঠামো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং যথারীতি উক্ত ভবনে পাঠদান কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
বেসরকারি পর্যায়ে সুবিশাল অবকাঠামো এবং আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ক্যাম্পাস হিসেবে পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যেই একটি আদর্শ মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যার উপহার স্বরূপ ২০১২ সাল থেকেই এ প্রতিষ্ঠানটি কারিগরী শিক্ষা বোর্ড মনোনীত পরীক্ষা কেন্দ্র হিসাবে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
পার্ক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এ বর্তমানে ৪ বৎসর মেয়াদী যে সকল কোর্স এর কার্যক্রম চালু রয়েছে।তার প্রতিটি বিভাগই পরিচালিত হয় মেধাবী, অভিজ্ঞ এবং সুদক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা। প্রতিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে উপযুক্ত সংখ্যক ল্যাব ওয়ার্ক করানো হয় হাতে-কলমে। যার ফলে একজন সাধারণ মানের ছাত্রও অসাধারণ মানে উন্নীত হয় ধীরে ধীরে। প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী এই তরুণেরা শিক্ষা কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার সাথে সাথেই কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে সফল হবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
ধন্যবাদান্তে